খাগড়াছড়িতে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার কম দামে হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাংক চেকের মাধ্যমে মামলা দেওয়ার অভিযোগে ‘প্রিয়া জুয়েলার্স’-এর মালিক সঞ্জীব বনিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার কম মূল্যে নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে ব্ল্যাংক চেক ব্যবহার করে বড় অঙ্কের টাকার মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সঞ্জীব বনিকের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এক নারীর প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার মাত্র ১২ হাজার টাকায় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আসমা বেগম, পিতা—আবু মুসা, সাং—ইসলামপুর, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, খাগড়াছড়ি সদর। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ রেখে দেওয়ার পরও তার নামে ২০ লাখ টাকার মামলা করা হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
অপর ভুক্তভোগী টিপু ত্রিপুরা, পিতা—সুকুমার ত্রিপুরা, সাং—গুগড়া ছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর। তিনি বলেন, স্বর্ণের বিপরীতে তিনি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। পরে তার কাছ থেকে দুটি ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হয়। তার অভিযোগ, ওই চেকের একটিতে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অপরটিতে ২৭ লাখ টাকা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এতে মামলা চালাতে গিয়ে তার পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী শতাব্দী ত্রিপুরা, পিতা—সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাং—ঠাকুরছড়া, খাগড়াছড়ি সদর। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন। স্বর্ণের পরিমাণ কম থাকায় তার কাছ থেকে একটি চেক নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পরও ওই ব্ল্যাংক চেক ব্যবহার করে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, সঞ্জীব বনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের কৌশলে স্বর্ণালংকার কম দামে নেওয়া এবং পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক সঞ্জীব বনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ বা মামলা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জীব বনিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।