বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পুনর্গঠন বিরোধে প্রতিবাদ করায় জেলা বিএনপির নেতা সাংবাদিক ফারুকের  বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক হিসেবে পরিচিত মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুক এর বিরুদ্ধে জোরা মামলা হয়েছে। মামলা দুটি ৩০ আগস্টের তারিখে হলেও গতকাল ১৩ আগস্ট জানাজানি হয়েছে। বিশেষ একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলা গোপন রেখে সাংবাদিক ফারুককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দুটির ১টি তথ্য প্রযুক্তি আইনে এবং ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে মামলা করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সদস্য এম এন আবছার। মামলা নং- ১৭, তারিখ-৩০/০৮/২০২৬।

জানা গিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল ওরফে প্রফুল্ল ময় দত্ত। মামলা নং ১৮, তারিখ-৩০/০৮/২০২৬।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক এর বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করেছেন তার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন।
উল্লেখ্য সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক নিজেও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক।

এইচ এম প্রফুল্ল অভিযোগ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মানহানি কর পোস্ট করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ এইচ এম ফারুক জানিয়েছেন- তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর সাংবাদিকতা করছেন। বিশেষ করে বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ও ভারত-মিয়ানমার সিমান্ত বিষয়ে গবেষণা করছেন। নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় লিখেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে অংশগ্রহণ করে আলোচনা করেন।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন, লেখালেখি করেন।

তিনি বলেন- আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদেও আছি।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বঞ্চিত করে রহস্যজনকভাবে দলের কেউ নন এমন একাধিক ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিষদের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী চাকরিরত ম্রাসাথোয়াই মারমা নামে একজনকে চাকরি থেকে অব্যহতি করিয়ে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। তিনি সুখে চাকরি করেছেন, অথচ এটা ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার নেতাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ প্রাপ্য ছিলেন। তাছাড়া ইউপিডিএফ কানেক্টেড এবং আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিল এমন একাধিক ব্যক্তিকেও জেলা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। এসব বিষয়ে লেখালেখি ও প্রতিবাদ জানানোর কারণেও আভ্যন্তরীণ কিছু গ্রুপিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। কতিপয় প্রভাবশালী নেতা যারা দল ব্যবহার করে অপকর্মে লিপ্ত, তারাও ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি তারা আমাকে মামলা-হামলা করে হয়রানি নির্যাতনের পথ বেছে নিচ্ছে। তার অংশ হিসেবে আমার রাজনৈতিক সহকর্মী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। পাশাপাশি পেশাগত সহকার্মী প্রফুল্ল তথ্য প্রযুক্তি ও মানহানি মামলা করেছেন।

আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় দলের প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃংখলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছেন। আমার এবং পরিবারের ফোন ট্রেকিং করছে।

সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন CRAB এর সদস্য এবং ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি।

জানা গিয়েছে তিনি খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত। ২০০৯ এবং ২০১১ সালেও তিনি হামলা- মামলার শিকার হয়েছিলেন।

তিনি দৈনিক ইনকিলাব, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকম এবং সর্বশেষ মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

এখন তিনি ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের উপসম্পাদকীয় ও কলাম লিখেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ