পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা কমিটির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মী, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে।
২৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণে এই গোশত বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা কমিটির বিভিন্ন ইউনিটের সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মী এবং স্থানীয় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে মাথাপিছু দেড় কেজি করে কোরবানির গোশত বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, আরো উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন: ”ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদে সামর্থ্যবানরা কোরবানি দিলেও সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা কোরবানি দিতে পারেন না। ফলে ঈদের খুশির দিনেও সন্তানদের মুখে একটু গোশত তুলে দিতে না পারায় তাদের আনন্দ মলিন হয়ে যায়। মূলত সেইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও আমাদের নেতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
তিনি আরও জানান, এবার অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মী ও অসহায় পরিবারের মাঝে এই গোশত বিতরণ করা হয়েছে।
ঈদের এই উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পিসিসিপির সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তারা জানান, এর আগে কখনো কেউ এভাবে তাদের খোঁজখবর নেয়নি বা ঈদের উপহার দেয়নি। রাঙামাটি জেলা পিসিসিপি বিগত চার বছর ধরে প্রতিনিয়ত তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সবসময় তাদের সুখ-দুঃখে খোঁজখবর রাখছেন।
গোশত বিতরণকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ”আমরা বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও ঐক্যবদ্ধ সহাবস্থানই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি।”