বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ

মোঃ আরিফুল ইসলাম খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে দুইটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় এবং আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়ির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শ্যামল আগষ্টিন রোজারিও উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবক-যুবতী ও আগ্রহী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজ নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান কিংবা ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়বে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। নিজ এলাকায় বিনামূল্যে এমন বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ