চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘জঙ্গল সলিমপুর’—এক সময় যে নামটি শুনলেই সাধারণ মানুষের বুকে কাঁপন ধরত। বছরের পর বছর ধরে চলা ভূমিদস্যুতা, অবৈধ পাহাড় কাটা আর দাগি অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এই দুর্ভেদ্য অঞ্চলকে কলঙ্কমুক্ত করা ছিল প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই জঙ্গল সলিমপুরে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার পেছনে যিনি সম্মুখ সমরে থেকে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি আর কেউ নন—চট্টগ্রাম রেঞ্জের বর্তমান অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন) নাজিমুল হক।
বাংলাদেশ পুলিশের এই দূরদর্শী ও সাহসী কর্মকর্তা তাঁর মেধা, সততা এবং অদম্য সাহসিকতা দিয়ে আজ চট্টগ্রামবাসীর কাছে এক আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
জঙ্গল সলিমপুর অভিযানে ঐতিহাসিক সেই নেতৃত্ব
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের মতো একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল পাহাড়ি এলাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ধরনের রক্তচক্ষু বা স্থানীয় অপরাধী চক্রের হুমকিকে তোয়াক্কা না করে, অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পুরো উচ্ছেদ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান পরিচালনা করেন তৎকালীন এই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তাঁর সুপরিকল্পিত ও দূরদর্শী ‘কৌশলগত অপারেশন’-এর কারণেই পাহাড়ের ভেতরের অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং শত শত একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শুধু কঠোরতাই নয়, অভিযানের পাশাপাশি সেখানকার সাধারণ ও অসহায় ভূমিহীন মানুষদের পুনর্বাসন এবং সুরক্ষার বিষয়টিও তিনি অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখভাল করে প্রশংসিত হয়েছেন।
মাঠপর্যায়ে অনন্য পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব পুলিশিং
বর্তমানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজিমুল হক। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার পর থেকে রেঞ্জজুড়ে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরও বেগবান হয়েছে। যেকোনো জরুরি বা সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সদালাপী আচরণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরের মতো একটি অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করার পেছনে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন) নাজিমুল হকের মাঠপর্যায়ের ভূমিকা চট্টগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর মতো সৎ, নির্ভীক এবং কর্মঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বই বাংলাদেশ পুলিশের গৌরব।”
পেশাদারিত্বের পাশাপাশি সমাজ সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত এই নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।