এখনই পদত্যাগ করছেন না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি কেন্দ্রে। সোমবারের (৪ মে) ভোটের এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কালীঘাট থেকে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, ‘আমরা হারিনি। ১০০টি আসন লুট করে নেওয়া হয়েছে। কমিশনই ভিলেন। এমনি জিতলে কোনো অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকে। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে মমতা বলেন, ‘এবারের ভোটে সব সন্ত্রাসকে ছাড়িয়ে গেছে! সন্ত্রাস করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি গট আপ করে সমস্ত কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে এ রকম ভোট আমি আগে দেখিনি!’
ভোট গণনাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। পাশাপাশি বিরোধী ঐক্য জোরদার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।মমতা বলেন, ‘সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদেরও ঢুকতে দেয়নি। ভেতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পেছনে লাথি মেরেছে। সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল।’
তিনি বলেন, ‘কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে?’বিজেপিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সকল নেতা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলে জানান মমতা। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনরা তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’মমতা জানান, যখন তৃণমূল জিতেছিল তখন কারও ওপর যেন অত্যাচার না হয় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের কোনো পার্টি অফিসে তার নেতারা হাত দেয়নি বলে জানান তিনি। মমতা বলেন, ‘নারীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো দল করতে পারে? ভাবা যায়? মহিলা হিসেবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই এটা হল, তা হলে অন্যদের কীভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে। দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ঘুরে দাঁড়াব।’ সংবাদ সম্মেলনে মমতা-অভিষেক ছাড়াও ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ড্রেক ওব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
