জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই মিষ্টি কথার অন্তরালে ছিল আবার সেই দালালির রাজনীতি।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তারা আবার এই দেশের শাসনব্যবস্থাকে ভারত ও পশ্চিমাদের মতো গড়ে তুলতে চাচ্ছে। তারা এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, যারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে এনসিপি কার্যালয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, আমাদের যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেটা শুধু শেখ হাসিনার পতনের জন্য হয়নি। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এরশাদের পতনের জন্য হয়েছে, ’৯৬-এর লড়াই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ও খালেদা জিয়ার পতনের জন্য হয়েছে, ২০০৭-০৮ সালের লড়াই হয়েছে সেনা শাসনের জন্য, একটা সুন্দর নির্বাচনের জন্য। কিন্তু চব্বিশের আন্দোলনে কেউ বলেনি যে আমরা শেখ হাসিনার পতন চাই, একটা নির্বাচন চাই, একটা নতুন সরকার চাই, সে জন্য লড়াই করছি। পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা দেয়ালে, প্রতেকটা প্ল্যাকার্ডে, প্রত্যেকটা রাস্তায় লেখা ছিল আমরা পরিবর্তন চাই, আমরা সংস্কার চাই, নতুন আকাঙ্ক্ষা চাই, নতুন বন্দোবস্ত চাই। অথচ তারা মনে করছে শুধু তাদের ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। এটা তারা ভুল ভাবছে। তারা নিজেরাও বলেনি আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তোমরা আন্দোলন করো।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, হাসিনার পতনের জন্য ১৬ বছর আন্দোলন করেছে, মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে, নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুত করেছে। কিন্তু তাদের নেতৃত্বে ওপর, তাদের ৩১ দফার ওপর মানুষ আস্থা রাখেনি। আস্থা রাখলে ২০১৪-তে, ২০১৮-তে, ২০২৪-এর ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে হাসিনার পতন ঘটত।
জুলাই সনদ নিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনের আগে অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা হয়েছে যে আমরা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। আমরা সবকিছু মেনে নেব। জুলাই সনদে যে প্রশ্নগুলোতে গণভোট হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করব। আমরা গণভোটে হ্যাঁ দিতে বলেছি, কারণ পরে যদি অস্বীকার করি, পরে আপনারা বেইমান মনে করবেন না? পরে আবার আসতে হবে না? এভাবে মিষ্টি কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই মিষ্টি কথার অন্তরালে ছিল আবার সেই দালালির রাজনীতি।
মন্তব্য করুন
