বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

বন্ধ জলিল টেক্সটাইলে হবে অস্ত্র কারখানা

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জমিতে এবার অস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।

এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি ও সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো ও সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই জলিল টেক্সটাইলের জমি ব্যবহার করা হবে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো ও বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইলের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধান একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে মিলটি পরিদর্শন করেন। পরে জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে, মিলটি হস্তান্তর নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। ২০০৪ সালে মিলটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ শ্রমিকদের মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, ‘আমাদের পাওনা টাকা এখনো বুঝে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিটিএমসিতে বৈঠক ও যোগাযোগ করেছি। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের পাওনা টাকার কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি থাকবে। আমরা প্রোগ্রাম স্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকব। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব।’

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল মিল ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়। মিলটিতে ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট ছিল। পরে উৎপাদন বাড়াতে উইভিং ও ডাইং বিভাগও চালু করা হয়। মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় দেশীয় বাজারে সুনাম পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল।

তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ